বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে করণীয় কি? জানুন প্রাথমিক চিকিৎসা

হঠাৎ করে বুকের ঠিক মাঝখানে একটা তীব্র চাপ বা মোচড় দিয়ে ওঠা ব্যথা যে কাউকে আতঙ্কিত করে তুলতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রথম প্রশ্ন আসে, বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে করণীয় কি এবং এটি কি কোনো বড় বিপদের লক্ষণ?

আমাদের অবহেলা বা সঠিক তথ্যের অভাব অনেক সময় একটি সাধারণ সমস্যাকেও জটিল করে তোলে।

তাই এই আর্টিকেলে আমরা বুকের ব্যথার আসল কারণ এবং জরুরি পদক্ষেপগুলো নিয়ে সহজ ভাষায় আলোচনা করব।

বুকে ব্যথার কারণ

বুকের মাঝখানে বা চারপাশে ব্যথা হওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে।

সব বুকের ব্যথাই যে হার্টের সমস্যা, তা কিন্তু নয়। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের বুকে ব্যথার প্রধান কারণগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রথমত, হৃদরোগ বা অ্যানজাইনার কারণে বুকে তীব্র চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, আমাদের অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে সৃষ্ট গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটি অন্যতম বড় কারণ।

তৃতীয়ত, বুকের পাঁজরের পেশী বা হাড়ে টান লাগার কারণেও এমন অস্বস্তি হতে পারে।

এছাড়াও অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তা বা প্যানিক অ্যাটাকের কারণে মানুষ বুকে ব্যথা অনুভব করে।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ

হার্টের ব্যথার কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষণ থাকে যা চেনা অত্যন্ত জরুরি।

হার্ট অ্যাটাক হলে বুকের মাঝখানে চাপ ধরা ব্যথা শুরু হয় এবং মনে হয় ভারী কোনো পাথর বুকের ওপর বসে আছে। এই ব্যথাটি সাধারণত এক জায়গায় স্থির থাকে না। ধীরে ধীরে এই ব্যথা বাম হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এর সাথে রোগীর প্রচুর ঠান্ডা ঘাম হতে শুরু করে।

অনেক সময় তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করা উচিত নয়।

গ্যাস্ট্রিকের বুকে ব্যথা দূর করার উপায়

অনেক সময় অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর বুকের মাঝখানে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা হয়। একে আমরা সাধারণত গ্যাস্ট্রিক বা এসিড রিফ্লাক্স বলে থাকি। গ্যাস্ট্রিকের বুকে ব্যথা দূর করার উপায় হিসেবে শুরুতেই এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করতে পারেন।

অ্যান্টাসিড জাতীয় কোনো ভালো সিরাপ বা ট্যাবলেট চিবিয়ে খেলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। ব্যথা থাকা অবস্থায় বিছানায় উপুড় হয়ে বা সোজা হয়ে শুয়ে পড়বেন না। বরং পিঠে দুটো বালিশ দিয়ে একটু আধা-বসা অবস্থায় থাকুন।

ভবিষ্যতে এই সমস্যা এড়াতে রাতে ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার অভ্যাস করুন।

বাম বুকে ব্যথা হলে করণীয়

অনেকের ক্ষেত্রে ব্যথাটি বুকের মাঝখান থেকে শুরু হয়ে বাম দিকে চলে যায়। বাম বুকে ব্যথা হলে করণীয় সম্পর্কে আমাদের সবার আগে শান্ত থাকতে হবে। রোগীকে কোনোভাবেই প্যানিক বা উত্তেজিত হতে দেওয়া যাবে না।

তাঁকে দ্রুত একটি আরামদায়ক জায়গায় সোজা করে বসিয়ে দিন। ঘরের জানালাগুলো খুলে দিন যাতে ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে।

যদি রোগীর আগে থেকে হৃদরোগের ইতিহাস থাকে, তবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জিভের নিচে নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে দিতে হবে।

যদি ব্যথা ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে না কমে, তবে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে।

বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে করণীয় কি

হঠাৎ কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া বুকে ব্যথা উঠলে প্রথম ৫ মিনিট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

যদি আপনি একা থাকেন এবং বুকের মাঝখানে ব্যথা হলে করণীয় কি তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন, তবে সবার আগে সাহায্যর জন্য কাউকে ডাকুন।

জোরে জোরে লম্বা শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন। আপনার গায়ের জামাকাপড় বা গলার বোতাম আলগা করে দিন।

যদি আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা না হয়ে হার্টের সমস্যা মনে হয়, তবে একটি অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট চিবিয়ে খেয়ে নিতে পারেন। অ্যাসপিরিন রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি সাময়িকভাবে কমায়। কখনো নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।

জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন অথবা প্রতিবেশীর সাহায্য নিন।

গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বনাম হার্টের ব্যথা চেনার উপায়

সাধারণ মানুষ প্রায়ই এই দুটি ব্যথার মধ্যে পার্থক্য করতে ভুল করেন। গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা সাধারণত টক ঢেকুর বা পেটে গ্যাস জমার সাথে সম্পর্কিত থাকে। এই ব্যথা হাঁটাচলা বা শারীরিক পরিশ্রম করলে খুব একটা বাড়ে না।

অন্যদিকে, হার্টের ব্যথা সামান্য পরিশ্রম করলেই তীব্র আকার ধারণ করে। বিশ্রাম নিলে বা নাইট্রো স্প্রে ব্যবহার করলে হার্টের ব্যথা সাময়িক কমে আসে।

মেয়ো ক্লিনিকের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক সময়ে পার্থক্য বুঝতে পারলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব।

FAQ

প্রশ্ন ১: বুকের মাঝখানের ব্যথা কি সবসময় গ্যাসের কারণে হয়?

উত্তর: না, সব বুকে ব্যথাই গ্যাসের কারণে হয় না।

তীব্র বুকের মাঝখানে চাপ ধরা ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণও হতে পারে।

প্রশ্ন ২: ইসিজি রিপোর্ট নরমাল আসলেই কি হার্ট ভালো আছে?

উত্তর: সবসময় ইসিজি রিপোর্টে প্রাথমিক হার্টের সমস্যা ধরা পড়ে না।

লক্ষণ যদি গুরুতর হয়, তবে চিকিৎসকরা ট্রপোনিন-আই নামক রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।

প্রশ্ন ৩: প্যানিক অ্যাটাকের কারণে বুকে ব্যথা হলে কী করব?

উত্তর: প্যানিক অ্যাটাক হলে এক জায়গায় স্থির হয়ে বসুন এবং গভীর শ্বাস নিন।

মনকে শান্ত করার চেষ্টা করুন, কিছুক্ষণ পর এই ব্যথা নিজে থেকেই কমে যায়।

প্রশ্ন ৪: কোন বয়সে বুকে ব্যথার ঝুঁকি বেশি থাকে?

উত্তর: সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর পুরুষ ও নারীদের বুকে ব্যথার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

তবে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে যেকোনো বয়сей ঝুঁকি থাকতে পারে।

প্রশ্ন ৫: বুকে ব্যথা হলে কি শুয়ে থাকা উচিত?

উত্তর: না, বুকে ব্যথা হলে পুরোপুরি ফ্ল্যাট হয়ে শুয়ে থাকা উচিত নয়।

এতে হার্ট বা ফুসফুসের ওপর চাপ বেশি পড়ে, তাই আধা-বসা অবস্থায় থাকা সবচেয়ে ভালো।

উপসংহার

বুকের মাঝখানের ব্যথাকে কখনো হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই পারে একটি বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে। আপনার বা আপনার পরিবারের কারও এমন সমস্যা হলে লক্ষণগুলো মিলিয়ে দেখুন। প্রয়োজনে অবহেলা না করে একজন অভিজ্ঞ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সুস্থ থাকুন এবং সচেতনতার মাধ্যমে নিজের জীবন সুরক্ষিত রাখুন।

Advertisement & Sponsored Offers
Editor's Choice
VIP Baji Club
★★★★★
Exclusive Welcome Package High Roller Rewards & Instant Cashbacks
JB Casino
★★★★☆
100% First Deposit Match Fast Payouts & 24/7 Premium Support
BetEkka
★★★★☆
Top Odds & Free Spins Hub Best for European Slots & Live Tables

Leave a Reply

Scroll to Top